সমাজের প্রান্তিক মানুষটি পর্যন্ত যাতে চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পায় সে দিশাতে সরকার কাজ করছে : মুখ্যমন্ত্রী
সমাজের প্রান্তিক মানুষটি পর্যন্ত যাতে চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পায় সে দিশাতে সরকার কাজ করছে : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২৭ আগষ্ট।। চিকিৎসকদের মায়ের মতো ধৈর্যশীল ভূমিকা নিতে হবে। মন দিয়ে রোগী ও তার আত্মীয়-স্বজনদের কথা শুনতে হবে। তাতে রোগীরা যেমন খুশি হবেন তেমনি রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘটা অনভিপ্রেত ঘটনাগুলিও হ্রাস পাবে। আজ ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ (টি এম সি) এবং ড. বি আর আম্বেদকর মেডিক্যাল (বি আর এম) টিচিং কলেজের ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে এ অভিমত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের আজকের দিনেই এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়েছিলো। বর্তমানে এম এম বি বি এস-এর জন্য ১০০টি এবং পি জি ডিগ্রি কোর্সের জন্য ৫টি সিট রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানবজাতি চিকিৎসকদের ভগবানের মর্যাদা দিয়েছে। একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে একমাত্র চিকিৎসকরাই। দেশের প্রতিটি গরীব মানুষ যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পায়, তারজন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত এর মতো যোজনা চালু করেছেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষটি পর্যন্ত যাতে চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পায় সে দিশাতে রাজ্য সরকারও কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন এখানে আউটডোরে ৯০০ এর মতো রোগী হয়। ১১০০ কর্মচারী রয়েছেন। এদের বেতন ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর আয় বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। এর সাথে সাথে পরিষেবাকেও আরও উন্নততর করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, জেনেরিক মেডিসিনের সেন্টার খোলা, আয়ুষ্মান ভারত চালু, নিয়মানুবর্তিতা, ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেলের ব্যবস্থা সম্পর্কে যত্নশীল হওয়ার দিকে কাজ করার জন্য পরামর্শ দেন। হাসপাতালের সকল ধরনের উন্নয়ন কর্মে সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে বলেও তিনি অনুষ্ঠানে আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস বলেন, সমাজের জন্য কাজ করেই সমাজের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। চিকিৎসকদের আসল পরীক্ষা তাদের কর্মজীবনে। মানুষের সাধ্যমত পরিষেবা প্রদান করাই হলো চিকিৎসকদের প্রধান কর্তব্য। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক ডা. অতুল দেববর্মা, বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. দেবাশিস বসু, মেডিক্যাল এডুকেশনের অধিকর্তা প্রফেসর চিন্ময় বিশ্বাস, টি এম সি-র অধ্যক্ষ প্রফেসার আসিরউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব কলেজ চত্ত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথিরা কলেজে বিভিন্ন বর্ষের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেন। 

আরো পড়ুন

Advertisement